• রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন
Headline
সরোয়ার তুষার কে প্রধান করে এনসিপির কেন্দ্রীয় মিডিয়া, প্রচার ও ব্র্যান্ডিং বিষয়ক উপ কমিটি গঠন নরসিংদীর বেলাবতে টানা বৃষ্টিতে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে বৃদ্ধা নিহত নিজের অধিকার কেউ দিবে না, আদায় করে নিতে হবে- ড.মঈন খাঁন নাগরিক সেবা প্রদানে মাধবদী পৌরসভার যুগান্তকারী সাফল্য স্বস্তিতে পৌরবাসী পলাশ ও ঘোড়াশালের যুবদলের কমিটি নিয়ে বিভ্রান্তি, কেন্দ্রীয় যুবদলের সতর্কবার্তা ইটিপি বন্ধ রেখেই চলছিল উৎপাদন, নরসিংদীতে নাসির ডাইং কারখানাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা পলাশে স্বামীর বাড়িতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের বিএনপি জনগনের সরকার – ড.আবদুল মঈন খাঁন ঘোড়াশাল -পলাশ সার কারখানার চমক প্রথম বছরেই ২৩২.৬৯ কোটি টাকা নিট মুনাফা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার ঘোষণা: ‘আজীবন বিএনপি করেই যাব’

ঘোড়াশাল -পলাশ সার কারখানার চমক প্রথম বছরেই ২৩২.৬৯ কোটি টাকা নিট মুনাফা

Reporter Name
Update : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

উৎপাদন শুরুর প্রথম বছরেই ২৩২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার সরকারি মালিকানাধীন দেশের সবচেয়ে বড় ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি মালিকানাধীন পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে এটিই একমাত্র মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান।
কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৩২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সার বিক্রি থেকে এসেছে ১ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা এবং সরকারি ভর্তুকি থেকে ৮৯৯ কোটি টাকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানির মোট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৯০১ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয় বাদ দিয়ে পরিচালন মুনাফা হয়েছে প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা। এছাড়া এফডিআর ও অন্যান্য বিনিয়োগের সুদ থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। সব ব্যয় ও ঋণের সুদ পরিশোধ শেষে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৩২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নভেম্বরে কারখানাটির উদ্বোধন হলেও ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাণিজ্যিকভাবে সার উৎপাদন শুরু হয়। উৎপাদন শুরুর আগের অর্থবছরে ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও ঋণের সুদ পরিশোধের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ৩৩৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একই অর্থবছরে সরকারি মালিকানাধীন বাকি চারটি ইউরিয়া সার কারখানার সম্মিলিত লোকসান হয়েছে ৪১৪ কোটি টাকা। প্রয়োজনীয় চাপ ও পরিমাণে নিরবচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় এসব কারখানা লোকসানে পড়ে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান বলেন, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। ফলে প্রথম বছরেই প্রতিষ্ঠানটি মুনাফা অর্জন করেছে।
প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিসিআইসির উদ্যোগে নির্মিত এই কারখানাটি ১১০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতিদিন ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন এবং বছরে ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, যা এটিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সার কারখানায় পরিণত করেছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ এখনও ১২ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশি ঋণ ১০ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা এবং সরকারের এডিপি ঋণ ১ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে ঋণের সুদ ও কিস্তি বাবদ প্রায় ৪৩৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছে কোম্পানিটি।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও প্রতিষ্ঠানটি লাভের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় ৪০ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় চলতি অর্থবছরে মুনাফা কিছুটা কম হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি ঋণের অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির ঋণ কোম্পানির নিজস্ব আয় থেকেই পরিশোধ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১০ বছর মেয়াদি ঋণের ৬টি কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হলে আগামী বছরগুলোতে আরও বেশি মুনাফা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা