মাধবদী পৌর প্রশাসক আসমা জাহান সরকার-এর সার্বিক দিকনির্দেশনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এবং পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (পিএনও) তাসলিমা আক্তারের তত্ত্বাবধানে পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নাগরিক সেবায় যুগান্তকারী সাফল্য এসেছে। বর্তমান প্রশাসনের দক্ষ নেতৃত্বে নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং পরিকল্পিত উন্নয়নে একাধিক কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে পৌরসভায় প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনবান্ধব নাগরিক সেবা প্রদানে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে, যার সুফল সরাসরি পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পৌরবাসীকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে পৌর প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। ফলে দীর্ঘদিন পর পৌরসেবায় এক ধরণের শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে, যা সেবাগ্রহীতাদের মাঝে এনে দিয়েছে স্বস্তি।
প্রশাসনিক সমন্বয় ও দক্ষ তদারকি
পৌরসভার কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে ও নাগরিক সেবা সহজীকরণে সিনিয়র কর্মকর্তাগণ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন।
প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয়, হয়রানি মুক্ত সেবা সহজীকরণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার মূল ভূমিকা রাখছেন।
প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং মাঠপর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ হোসেন শিমুল কঠোরভাবে তদারকি করছেন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের নিখুঁত পরিকল্পনা, কারিগরি মূল্যায়ন ও দ্রুত বাস্তবায়নে নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে মাধবদী পৌরসভায় সেবা নিতে আসা একাধিক নাগরিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পৌরসভার সেবার চিত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে।
সেবা নিতে আসা রহমত উল্লাহ বলেন,
“পূর্বে একটি জন্মসনদ বা ওয়ারিশ সনদের জন্য আমাদের মাসের পর মাস পৌরসভার বারান্দায় ঘুরতে হতো। দিনের পর দিন এসেও কর্মকর্তাদের দেখা স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলার সুযোগ ছিলনা, আর পর্দার আড়ালে অতিরিক্ত টাকা (ঘুষ) দেওয়া ছাড়া কোনো ফাইল নড়ত না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কোনো বাড়তি টাকা ছাড়াই, অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে মাত্র কয়েক দিনেই আমি আমার নাতির জন্মসনদ হাতে পেয়েছি। এই পরিবর্তন আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বড় স্বস্তির।”
সেবা নিতে আসা কলেজ ছাত্রী ফারিহা বলেন,”আমি আমার চারিত্রিক ও নাগরিক সনদপত্র নিতে এসেছিলাম। ভেবেছিলাম আগের মতো আজকেও শুধু আবেদন জমা নিয়ে ঘুরানো হবে। কিন্তু ডিজিটাল সেবা ও কর্মকর্তাদের আন্তরিকতায় মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই আমি সনদ পেয়ে গেছি। কোনো টেবিল টক বা দালালের খপ্পরে পড়তে হয়নি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আগে যেখানে মৃত্যু সনদ, জন্ম সনদ এবং ওয়ারিশ সনদের মতো সংবেদনশীল কাগজ তুলতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো, সেখানে বর্তমান পৌর প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পৌর প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগে নাগরিক সেবার গতি যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, ঠিক তেমনি স্থবির হয়ে পড়া উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো আবার সচল হয়েছে। রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও গতি এসেছে।
চলমান প্রকল্পসমূহ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এবং সেবার এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে মাধবদী পৌরসভা অতি দ্রুত একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও সম্পূর্ণ জনবান্ধব মডেল পৌরসভা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।