কৃষিতে সম্ভাবনা, কৃষকের সাফল্য, প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম ও গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে সাংবাদিকতায় বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করেছেন নরসিংদীর সাংবাদিক মো. মনিরুজ্জামান। আনন্দ টেলিভিশনের কৃষিবিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য তাঁকে বর্ষসেরা প্রতিবেদকের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
নরসিংদীর ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য লটকনকে ঘিরে কৃষি অর্থনীতির বিকাশ, উৎপাদনকারীদের সাফল্য এবং গ্রামীণ জনপদের আর্থসামাজিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর নির্মিত বিশেষ প্রতিবেদনটি কৃষি ক্যাটাগরিতে বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়। প্রতিবেদনটিতে লটকন চাষের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে এ ফলের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে শ্রেষ্ঠ প্রতিবেদকের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আনন্দ টেলিভিশনের আনন্দ উৎসব ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
গত শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) কক্সবাজারের মোটেল লাবণী মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘বেস্ট রিপোর্টার অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান তৌফিক আব্বাস। পরে তিনি মো. মনিরুজ্জামানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
২০১২ সালে সাপ্তাহিক দেশগ্রাম পত্রিকার নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন মো. মনিরুজ্জামান। পরবর্তী সময়ে আইপি টিভি জোনাকী টেলিভিশনের মাধবদী প্রতিনিধি হিসেবে টেলিভিশন সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। সেখানে প্রায় তিন বছর কাজ করার পর দৈনিক গ্রামীণ দর্পণ, আমরা নরসিংদী বাসী পত্রিকা সহ জাতীয় পত্রিকা দৈনিক অধিকার ও দ্যা ডেইলি এক্সপ্রেস পত্রিকার নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দ্যা ডেইলি ইন্ডাস্ট্রি পত্রিকা ও আনন্দ টেলিভিশনের নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় মনিরুজ্জামান। তিনি নরসিংদী জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর টানা তিনবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তিনি।
বর্ষসেরা প্রতিবেদক নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মনিরুজ্জামান বলেন,
“আনন্দ টিভির বর্ষসেরা প্রতিবেদক হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করায় প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান তৌফিক আব্বাসসহ আনন্দ টিভি পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করছি।
এই অর্জন কখনোই আমার একার নয়; বরং এটি আনন্দ টিভির পুরো পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সহযোগিতা ও ভালোবাসার ফসল। একটি সংবাদকে তথ্যবহুল, বস্তুনিষ্ঠ ও প্রাণবন্তভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে ন্যাশনাল ডেস্ক ইনচার্জ, অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর, নিউজরুম এডিটরসহ সংশ্লিষ্ট সকল সহকর্মী ও কলাকুশলীর যে আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি, তাঁদের প্রত্যেকের অবদান আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তাই এই সম্মাননা আমি আনন্দ টিভি পরিবারের সকল সদস্যের প্রতি উৎসর্গ করছি।
সাংবাদিকতা আমার কাছে শুধু পেশা নয়, এটি সমাজ ও মানুষের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা। আমি যেন সবসময় সমাজের নির্যাতিত, নিপীড়িত, অসহায় ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি, তাঁদের কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরতে পারি এবং সকল অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক ও আপোসহীনভাবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে যেতে পারি—সেজন্য সবার দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করছি।
আগামীতেও সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়াই হবে আমার প্রধান অঙ্গীকার।”
এই অর্জন আমার পেশাগত জীবনে নতুন অনুপ্রেরণা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করেছে। আগামীর পথচলায় এই সম্মাননার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে আরও নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।