শিরোনাম :
নরসিংদীতে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু পলাশ ও জিনারদী ইউনিয়নবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন যুবদল নেতা নিছার আহমেদ খান নরসিংদীতে গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ পরিবার পলাতক জিনারদী ইউনিয়নবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা ফিরোজ মোল্লা জিনারদী ইউনিয়নবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন মাসুদ খাঁন নরসিংদীতে কুলখানি অনুষ্ঠানে প্রবেশে হুড়াহুড়ি পদদলিত হয়ে শিশু সহ আহত ১৫ নরসিংদীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান ৭ মামলায় জরিমানা ৭৭৫০০ টাকা নরসিংদীতে ভোজ্য তেল মজুদ প্রতিরোধে যৌথ অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠান কে জরিমানা ২২ বছর পর বেলাব উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন, সভাপতি মামুন সাঃসম্পাদক মোফাজ্জল মনোহরদী উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন

গ্যাস সংকটে ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৭ ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ

Reporter Name / ৬৫৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবস্থা বর্তমানে চরম নাজুক। গ্যাস সংকটের কারণে কেন্দ্রের সাতটি ইউনিটের একটিও বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেই। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক।

তিনি জানান, “গত দুই বছর ধরেই আমাদের গ্যাসের সংকট চলছে। কিন্তু ঈদুল আজহার পর থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। গ্যাস না থাকায় ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ইউনিট সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা মন্ত্রণালয়ে বিকল্পভাবে গ্যাস চেয়ে আবেদন করেছি।”

ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪ নম্বর ইউনিটে রয়েছে ৩৬০ মেগাওয়াট, ৫ নম্বরে ২১০ মেগাওয়াট এবং ৭ নম্বরে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা। এককভাবে এই তিন ইউনিটই উৎপাদন করতে পারে প্রায় ৯৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, যা জাতীয় গ্রিডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।

প্রধান প্রকৌশলী আরও জানান, ৩ নম্বর ইউনিটে রোটারের ব্লেডে সমস্যার কারণে আগে থেকেই উৎপাদন বন্ধ ছিল। মেরামতের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গ্যাস পেলেই এই ইউনিটও চালু করা সম্ভব।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে ৬ নম্বর ইউনিট, যেখানে ২০১০ সালের জুন মাসে আগুন লাগায় টারবাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই থেকে এটি পুরোপুরি অচল।

ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রাচীনতম ১ ও ২ নম্বর ইউনিটও এখন ইতিহাসের অংশ হতে চলেছে। ১৯৭৪ ও ১৯৭৬ সালে উৎপাদনে আসা এই দুটি ইউনিট বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। সূত্র জানায়, এই দুটি ইউনিট ভেঙে নতুন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই মুহূর্তে জাতীয় গ্রিডে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে কোনো বিদ্যুৎ যোগ হচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে বলেও জানান পলাশ উপজেলার বাসিন্দারা।

দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের এমন অচলাবস্থা শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নয়, জাতীয় পর্যায়েও এক বড় ধাক্কা। দ্রুত বিকল্প গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category