• বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন
Headline
ভুয়া শিক্ষক সনদ নিয়ে অভিযোগের জেরে সাংবাদিককে হুমকি-মানহানি: ৫ অধ্যক্ষ-সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ নরসিংদীতে ভোজ্যতেলে পরিমাপে কারচুপি, ৩ লাখ টাকা জরিমানা, প্রতিষ্ঠান সিলগালা আহলা দরবার শরীফের পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী জুলুস মিছিল মনোহরদীতে স্কুল ছাত্রীর বাল্য বিবাহ বন্ধ করলো প্রশাসন গুলি করে ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামী সহ আটক ৫ মনোহরদীতে গাঁজা সেবন করে উশৃঙ্খল আচরণ, যুবকের ১০ মাসের কারাদণ্ড পলাশে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতা মাসুমের মৃত্যু দীর্ঘদিন সংস্কারহীন মনোহরদী বাইপাস, পৌরসভার উদ্যোগে ফের সচল যান চলাচল মনোহরদীতে হুইলচেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ প্রবাসী সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে অসহায় পরিবারের মাঝে ছাগল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

ভুয়া শিক্ষক সনদ নিয়ে অভিযোগের জেরে সাংবাদিককে হুমকি-মানহানি: ৫ অধ্যক্ষ-সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ

Reporter Name
Update : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ভুয়া শিক্ষক সনদ ও নিয়োগের বিষয়ে অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে অভিযোগ করার জেরে সাংবাদিক কাজী শরিফুল ইসলামকে হুমকি ও মানহানি করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পাঁচ অধ্যক্ষ-সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে রমনা মডেল থানা।

দণ্ডবিধির ৫০০ ও ৫০৬ ধারায় দায়ের করা সিআর মামলা নং-৩০৬/২০২৬ (রমনা)-এর তদন্ত শেষে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদালত নং-৯-এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন রমনা মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) নাজমুল হোসেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন—মোঃ বাকিউল ইসলাম, অধ্যক্ষ, মনতলা ফাজিল মাদ্রাসা; মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ওরফে কামাল উদ্দিন, সুপার, কোচের চর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা; মোঃ এমারত হোসাইন, সুপার, টিকিউ বালিকা মাদ্রাসা; মোঃ এখলাছ উদ্দিন, সুপার, শেখেরগাঁও জে ইউ ফাজিল মাদ্রাসা এবং মোঃ আবু রায়হান ভূঁইয়া, অধ্যক্ষ, চন্দনবাড়ি কামিল মাদ্রাসা।

মামলার বাদী কাজী শরিফুল ইসলাম মনোহরদী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও পেশায় সাংবাদিক। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও ভুয়া শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে অনুসন্ধান করে সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে অভিযোগ করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন সময়ে ২৬ জন ভুয়া NTRCA সনদধারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের ইনডেক্স কর্তন, বেতন বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনতলা ফাজিল মাদ্রাসার ৮ জন, কোচের চর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৮ জন, শেখেরগাঁও জে ইউ ফাজিল মাদ্রাসার ২ জন এবং টিকিউ বালিকা মাদ্রাসার ৮ জন শিক্ষকের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

বাদীর অভিযোগ, এসব বিষয়ে অনুসন্ধান ও অভিযোগ করার পর অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময়ে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে মনোহরদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটের সামনে তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রচারণা চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই মানববন্ধনের ব্যানার ও বক্তব্যে সাংবাদিক কাজী শরিফুল ইসলামকে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত হিসেবে উপস্থাপন এবং তার বিরুদ্ধে অর্থ দাবির অভিযোগ তোলা হয়। পরে মানববন্ধনের ভিডিও ও বক্তব্য বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে তার সামাজিক মর্যাদা ও সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ সকাল ১০টার দিকে ঢাকার রমনা থানাধীন বেইলী রোডে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এলাকায় অভিযুক্তরা তাদের সঙ্গে থাকা লোকজন নিয়ে বাদীর ছবি ব্যবহার করে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। সেখানে বাদীর বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে এসব বক্তব্য ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তদন্তভার গ্রহণের পর ১৫ মে ২০২৬ সকাল ১০টার দিকে বাদীর দেখানো মতে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। পরে বাদী ও ঘটনার বিষয়ে অবগত সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি ঘটনার রহস্য উদঘাটনে প্রকাশ্য ও গোপনীয়ভাবে তদন্ত করা হয়।

মামলায় বাদীপক্ষের সাক্ষী হিসেবে অঞ্জনা বেগম, মোঃ রাজীব হোসেন ও মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নাম রয়েছে। নিরপেক্ষ সাক্ষী হিসেবে মোঃ সেলিম রেজাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে জব্দ করার মতো কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বাদীর কাছ থেকেও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

তদন্তের শেষ পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার সার্বিক তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, কাগজপত্র পর্যালোচনা এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ও ৫০৬ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যথানিয়মে বাদীকে তদন্তের ফলাফল অবহিত করা হয়েছে। মামলার বিচারকালে বাদী ও সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করবেন।

তদন্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করেছেন রমনা মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) নাজমুল হোসেন, বিপি-৯১১৯২২২৮৮১।

উল্লেখ্য, তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে; মামলার চূড়ান্ত দায় বা অপরাধ প্রমাণের বিষয়টি আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা