নরসিংদী সদর উপজেলার সাহেপ্রতাপ এলাকায় ভোজ্যতেল উৎপাদন ও বাজারজাতকারী একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়, নরসিংদীর উদ্যোগে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, সাহেপ্রতাপ এলাকার এন এস কো ফুড এন্ড কনজ্যুমার লিমিটেড প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ভোজ্যতেল উৎপাদন, মোড়কজাত ও বাজারজাতকরণে বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায়।
বিএসটিআই জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেলের প্রতি ১ হাজার ৮০০ মিলিলিটার পণ্যে ৬০ মিলিলিটার এবং প্রতি ৯০০ মিলিলিটারে ৪০ মিলিলিটার কম দিচ্ছিল। এছাড়া বিএসটিআইয়ের গুণগত মান সনদ ছাড়াই ‘রুপালী ইলিশ’, ‘রুপালী চান্দা’ ও ‘পুষ্প’ ব্র্যান্ডের নামে তেল বিক্রি ও বিতরণ করা হচ্ছিল।
এ ছাড়া একই ঠিকানা ব্যবহার করে চারটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মোড়কজাত ও বাজারজাত করার অভিযোগও পাওয়া যায়।
অভিযানে আরও দেখা যায়, পণ্য মোড়কজাত বিধিমালা লঙ্ঘন করে ৪৫০, ৯০০, ১ হাজার ৮০০ ও ৪ হাজার ৫০০ মিলিলিটার আকারের বোতলে অবৈধভাবে পণ্য মোড়কজাত ও বিক্রি করা হচ্ছিল। পাশাপাশি তেলে নির্ধারিত মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ সংযোজন না করা, বিএসটিআইয়ের সনদ ছাড়াই লেবেলে বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড চিহ্ন ব্যবহার এবং মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ ছাড়াই পণ্য উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ করার বিষয়ও ধরা পড়ে।
এসব অপরাধের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে বিএসটিআই আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ২ লাখ টাকা এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ১ লাখ টাকা, সর্বমোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে।
পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ ও সিএম লাইসেন্স গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়, ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাহবুবুল ইসলাম। অভিযানে সহযোগিতা করেন বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়, নরসিংদীর উপপরিচালক (মেট্রোলজি) ও অফিস প্রধান মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং সহকারী পরিচালক (সিএম) নিখিল রায়।
প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফিল্ড অফিসার (সিএম) এ এফ এম হাসিবুল হাসান এবং পরিদর্শক (মেট্রোলজি) মোঃ আরিফ হোসেন আসিফ।
বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভেজাল, নিম্নমানের পণ্য, পরিমাপে কারচুপি ও পণ্য উৎপাদন-বাজারজাতকরণে অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও বাজার তদারকি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।