শিরোনাম :
নরসিংদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, হোটেল ও পরিবহনে ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা নরসিংদীতে যৌথ অভিযানে ৯ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল উদ্ধার, জরিমানা ৬০ হাজার টাকা পলাশে বান্ধবীর বাড়ী থেকে ফেরার পথে তরুনী কে তুলে নিয়ে গনধর্ষন গ্রেফতার ১ নরসিংদীতে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু পলাশ ও জিনারদী ইউনিয়নবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন যুবদল নেতা নিছার আহমেদ খান নরসিংদীতে গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ পরিবার পলাতক জিনারদী ইউনিয়নবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা ফিরোজ মোল্লা জিনারদী ইউনিয়নবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন মাসুদ খাঁন নরসিংদীতে কুলখানি অনুষ্ঠানে প্রবেশে হুড়াহুড়ি পদদলিত হয়ে শিশু সহ আহত ১৫ নরসিংদীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান ৭ মামলায় জরিমানা ৭৭৫০০ টাকা
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১২ অপরাহ্ন

নরসিংদীতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সাফল্য: উপস্থিতি বৃদ্ধি ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণে নতুন দিগন্ত

Reporter Name / ৩৭০ Time View
Update : শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা ও পুষ্টির ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে নরসিংদী জেলার ছয়টি উপজেলায় চালু হওয়া ‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’ ইতোমধ্যে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। জেলাজুড়ে এই উদ্যোগ শুধু ছাত্র-ছাত্রীদের দৈনিক উপস্থিতির হারই বাড়ায়নি, শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন উদ্দীপনা তৈরি করে অভিভাবকদেরও আস্থা অর্জন করেছে।

স্থানীয় শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি চালুর পর জেলার ছয়টি উপজেলার ৭৭৩টি বিদ্যালয়ে ১ লাখ ৫১ হাজার শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার গড়ে ১০% থেকে ১৫% পর্যন্ত বেড়ে গেছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক এলাকাগুলোতে যেখানে নিয়মিত অনুপস্থিতির হার তুলনামূলক বেশি ছিল, সেখানে পরিবর্তনটি চোখে পড়ার মতো।

সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমদাদুল হক বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে এই কর্মসূচি একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ। এখন অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী, কারণ তারা জানেন শিশুরা প্রতিদিন পাবে একটি পুষ্টিকর খাবার।”

কর্মসূচির আওতায় প্রতি শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে তিন দিন বন রুটি ও সিদ্ধ ডিম, এক দিন বন রুটি ও ইউএইচটি দুধ, এবং এক দিন ফোর্টিফাইড বিস্কুট ও কলা সরবরাহ করা হচ্ছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ মো. আমিরুল হক শামীম বলেন, “এই উদ্যোগ শুধু উপস্থিতি বাড়াচ্ছে না, পাশাপাশি গ্রামীণ শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়ক হচ্ছে। নিয়মিত ও মানসম্মত খাবার পাওয়ায় শিশুরা ক্লাসে বেশি মনোযোগী হচ্ছে, যা তাদের মেধার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

রায়পুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর অভিভাবক জানান, “আগে আমার মেয়ে স্কুলে যেতে চাইত না। এখন নিজে থেকেই প্রস্তুত হয়ে যায়। আমরা গরিব মানুষ—এখনকার বাজারে স্কুলের খাবারটা আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা।”

তবে কর্মসূচির পূর্ণ সফলতার পথে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে। কিছু বিদ্যালয় থেকে খাবার সময়মতো সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তারা নিয়মিত মনিটরিং চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নরসিংদীর স্কুল ফিডিং কর্মসূচি প্রমাণ করেছে—শিক্ষার পাশাপাশি পুষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি আরও দৃঢ় করা সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category