নরসিংদীর মনোহরদীতে সতীনকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজের শিশুকন্যাকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করার পর মরদেহ সতীনের বিছানায় লুকিয়ে রাখার এক চাঞ্চল্যকর ও নির্মম ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। ঘটনার পেছনে থাকা ঘাতক মা রহিমা টুনীকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত মা ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এর আগে, উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামে নজরুল ইসলামের তালাবদ্ধ ঘরের ভেতর বিছানার ওপর চাদর দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর আড়াই বছরের শিশুকন্যা তানজিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রহস্যজনক এই ঘটনার পর শিশুটির নানি চরমান্দালীয়া গ্রামের ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ শিশুটির মা রহিমা টুনীকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও পরিকল্পনা উন্মোচিত হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, সতীন হনুফা বেগমকে বিপদে ফেলার উদ্দেশ্যে রহিমা টুনী নিজের সন্তানকে গোপনে নানিবাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে খিদিরপুর এলাকার পাড়াতলা গ্রামের একটি পুকুরের পানিতে চুবিয়ে শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এরপর সুযোগ বুঝে স্বামীর বসতঘরের দরজার তালা খুলে নিজ সন্তানের মরদেহ বিছানায় রেখে ঘরে বাইরে থেকে তালা দিয়ে সটে পড়েন।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, সন্তান হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার রহিমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। আদালতে দোষ স্বীকার করে তিনি জবানবন্দি দেওয়ার পর বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।