স্টাফ রিপোর্টারঃ
নরসিংদী জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম মিয়া এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই জেলায় কর্মরত রয়েছেন। সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী নিয়মিত বদলি হওয়া বাধ্যতামূলক হলেও তার ক্ষেত্রে একাধিকবার বদলির আদেশ জারির পরও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এতে প্রশ্ন উঠেছে তার প্রভাব, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে।
সর্বশেষ ২৬ জুন ২০২৫ তারিখে এলজিইডি সদর দপ্তর থেকে জারি করা আদেশ (স্মারক নং ৪৬.০২.০০০০.০০৩.১৮.০০৪.২১-৬৩০৬) অনুযায়ী, মো. শাহ আলম মিয়াকে মেহেরপুর জেলার এলজিইডিতে বদলি করে ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মস্থল ত্যাগ না করলে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য করা হবে। একই আদেশে ঢাকার সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মীর মাহিদুল ইসলামকে নরসিংদীতে পদায়ন করা হয়।
তবে সময়সীমা অতিক্রম করলেও মো. শাহ আলম মিয়া এখনো নরসিংদী অফিসেই বহাল তবিয়তে কর্মরত রয়েছেন এবং নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মীর মাহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব বুঝে না দিয়ে তার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মো. শাহ আলম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতার আশ্রয়ে থেকে নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। তবুও তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনিক দুর্বলতা ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে মীর মাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু শাহ আলম মিয়া দায়িত্ব বুঝে না দেওয়ায় আমি এখনো দায়িত্ব নিতে পারিনি। আমি ঝগড়া করে দায়িত্ব নিতে চাই না। বিষয়টি কেন্দ্রীয় দপ্তর দেখবে বলে আশা করছি।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত শাহ আলম মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি বদলির আদেশ পেয়েছি, তবে ঢাকায় একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগ দিতে পারিনি।” আদেশে উল্লেখিত স্ট্যান্ড রিলিজ সংক্রান্ত তথ্য তার জানা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে এলজিইডি নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশা বলেন, “শাহ আলমের মতো একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা বদলির আদেশ অমান্য করে কীভাবে এখনো পদে বহাল আছেন, তা আমারও বোধগম্য নয়।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, একজন সরকারি কর্মকর্তা বছরের পর বছর একই কর্মস্থলে থেকে প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন – এটি শুধু চাকরি বিধির পরিপন্থী নয়, বরং সুস্থ প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি।
তারা দ্রুত মো. শাহ আলম মিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বদলি আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি নারী কেলেঙ্কারিসহ সকল অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে তদন্তের দাবিও উঠেছে।