নরসিংদীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনোয়ার শামীমের নাম ভাঙিয়ে আসামির পরিবারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিন প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন নিজেকে ডিবি পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দিতেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে নরসিংদী পৌর শহরের পায়রা চত্বর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. সোহান (২৫), শামীম ফকির (৩৫) ও শুভ (২৭)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার শামীম।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মার্চ চিনিশপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার শামীমের নেতৃত্বে এবং ডিবি পুলিশের অংশগ্রহণে পরিচালিত এক অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় মনিরুজ্জামান (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে একটি রামদাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন বিকেলে ডিবির কথিত সোর্স সোহান তার দুই সহযোগীকে নিয়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামির পরিবারের কাছে যায়। তারা দাবি করে, ১০ হাজার টাকা দিলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে ‘ম্যানেজ’ করে আসামিকে আদালতে চালান না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে পরিবারটি দাবি করা টাকা প্রদান করে।
কিন্তু পরবর্তীতে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলে পরিবারের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন, সোহান ও তার সহযোগীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে এবং ওই কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই।
প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী পরিবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে অবহিত করে। তার পরামর্শে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে এবং মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে। অধিকতর তদন্তের জন্য তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।
তিনি আরও জানান, ডিবির সোর্স পরিচয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে সংঘটিত এই প্রতারণার ঘটনায় ডিবির কোনো সদস্য জড়িত রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।