শিরোনাম :
নরসিংদীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণা, আটক ৩ দীর্ঘ ৯ মাস পর উৎপাদনে ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৭ নম্বর ইউনিট ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রহরী হাবিবুল্লাহ পাঠান চলে গেলেন না ফেরার দেশে বেদে সম্প্রদায়ের মুখে হাসি, ঈদ উপহার দিলেন ড.মঈন খাঁন ৩ বছরে সংস্কার হয়নি নরসিংদী জেলখানা মোড়ের সড়ক,ময়লা ও জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তি প্রশংসায় ভাসছেন নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার নরসিংদী জেলা রিপোটার্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ী-চাঁদাবাজদের উদ্দেশ্যে এএসপির খোলা চিঠি নরসিংদীতে অস্ত্র ও ইয়াবা সহ একাধিক মামলার আসামি আলমগীর আটক পলাশে কচুরিপানায় বন্ধ খাল নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার করলেন যুবদল নেতা মাসুদ খাঁন
শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন

ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রহরী হাবিবুল্লাহ পাঠান চলে গেলেন না ফেরার দেশে

Reporter Name / ১৩৩ Time View
Update : শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬

উয়ারী-বটেশ্বরখ্যাত প্রত্নসম্পদ ও লোকসাহিত্য সংগ্রাহক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক-গবেষক মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (২১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বটেশ্বর গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন মেয়ে, পাঁচ নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন। এছাড়া বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। প্রায় দেড় মাস আগে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৩৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বটেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান। তাঁর বাবা হানিফ পাঠান ছিলেন প্রখ্যাত লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও গবেষক। বাবার অনুপ্রেরণায় ছোটবেলা থেকেই প্রত্নতত্ত্ব ও লোকসাহিত্য গবেষণায় যুক্ত হন তিনি।
১৯৫৫ সালে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বাবার সঙ্গে উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নস্থল নিয়ে কাজ শুরু করেন। তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টায় এলাকাটিতে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালিত হয় এবং ২০০০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে খননকাজ শুরু হয়।
বাবা-ছেলে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বটেশ্বর প্রত্ন সংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার’, যেখানে সংরক্ষিত রয়েছে প্রায় তিন হাজার বছরের প্রাচীন নানা প্রত্ননিদর্শন, দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ ও ঐতিহাসিক সাময়িকী।
কর্মজীবনে তিনি ছিলেন একাধারে গবেষক, লেখক ও সংগ্রাহক। ২০০৯ সালে তিনি বাংলা একাডেমির ফেলো নির্বাচিত হন এবং ২০২০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর রচিত গ্রন্থসংখ্যা ১৬টি, যার মধ্যে ‘উয়ারী-বটেশ্বর: শেকড়ের সন্ধানে’ গ্রন্থটি ২০১৩ সালে প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কার লাভ করে।
আজ শনিবার বাদ আসর বিকেল সাড়ে ৫টায় বটেশ্বর স্কুল মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category